আইসিডিএস জিকে | ICDS GK in Bengali

0

ICDS প্রকল্প (Integrated Child Development Services) জিকে: আইসিডিএস সাধারণ জ্ঞান

আইসিডিএস সাধারন জ্ঞান

আইসিডিএস জিকে 


Table of Content (toc)

১. প্রকল্পের শুরু ও পেছনের কথা

Integrated Child Development Services বা সংক্ষেপে ICDS (বাংলায় 'সুসংহত শিশুবিকাশ প্রকল্প') হলো ভারত সরকারের নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রকের অধীনে থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ১৯৭৫ সালের ২রা অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে, মাত্র ৩৩টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। আজ এটি সারা বিশ্বের মধ্যে ছোটো শিশুদের দেখভালের অন্যতম বড় একটি কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত।

আইসিডিএস জিকে

২. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য 

  • সব দিকের বিকাশ: ০ থেকে ৬ বছর বয়সি শিশুদের শরীর, মন, বুদ্ধি এবং সমাজের সাথে মিলেমিশে চলার ক্ষমতার একটি শক্ত ভিত তৈরি করা।
  • সমস্যা কমানো: শিশুমৃত্যু, মায়ের মৃত্যু, অপুষ্টি, বারবার অসুস্থ হওয়া এবং ছোটোবেলায় স্কুল ছেড়ে দেওয়ার হার অনেকখানি কমিয়ে আনা।
  • মায়েদের সচেতনতা বাড়ানো: স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়ার মাধ্যমে মায়েদের সচেতন করা, যাতে তাঁরা নিজেদের এবং বাচ্চার সঠিক যত্ন নিতে পারেন।
  • মিলেমিশে কাজ করা: শিশুদের উন্নতির জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের (যেমন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক এবং পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগ) মধ্যে একটি ভালো যোগাযোগ ও একসাথে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা।


৩. ICDS প্রকল্পের সুবিধা যারা পান

এই প্রকল্পের আওতায় যাঁরা সুবিধা পান তাঁরা হলেন:
  • ০ থেকে ৬ বছর বয়সি সমস্ত শিশু।
  • গর্ভবতী নারী (যাঁরা মা হতে চলেছেন)।
  • সদ্য মা হয়েছেন এমন নারী বা যে মায়েরা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ান।
  • কিশোরী মেয়েরা (কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বা এর সাথে যুক্ত অন্য প্রকল্পের মাধ্যমে)।


৪. ICDS-এর ৬টি মূল পরিষেবা বা কাজ

এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত ৬টি সুবিধা দেওয়া হয়, যা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি (AWC) থেকে পাওয়া যায়:

১. বাড়তি পুষ্টি: প্রতিদিনের পুষ্টির অভাব দূর করতে শিশু ও মায়েদের সঠিক পরিমাণ ক্যালোরি ও প্রোটিনযুক্ত খাবার দেওয়া।
 
২. টিকা দেওয়া: স্বাস্থ্য দপ্তরের সাহায্যে পোলিও, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হাম ইত্যাদির টিকা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখা।
 
৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষা: মা ও শিশুর ওজন মাপা এবং নিয়মিত তাঁদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
 
৪. জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা (রেফারেল): কোনো শিশু বা মায়ের শরীর বেশি খারাপ হলে, দ্রুত কাছের হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
 
৫. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা: ৩ থেকে ৬ বছর বয়সি শিশুদের খেলার ছলে পড়াশোনা শিখিয়ে স্কুলের জন্য তৈরি করা।
 
৬. পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা: ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি মহিলাদের স্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে জানানো।


৫. পরিচালনার নিয়ম ও কর্মী

এই প্রকল্পটিকে সফল করতে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বা কাঠামোতে কাজ হয়:

  • অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা: 'অঙ্গনওয়াড়ি' কথাটির মানে হলো 'বাড়ির আঙিনায় বা উঠোনে আশ্রয়'। একদম পাড়ার বা গ্রামের স্তরে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন কর্মী এবং একজন সহায়িকা (যিনি কাজে সাহায্য করেন) থাকেন। তাঁরা এলাকার শিশুদের পড়াশোনা, টিকা দেওয়া, গর্ভবতী মায়েদের দেখাশোনা এবং শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকা মানুষদের খুঁজে বের করে সাহায্য করেন।
  • সুপারভাইজার: যিনি কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা দেখাশোনা করেন।
  • CDPO (চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার): ব্লক স্তরে এই প্রকল্পের প্রধান অফিসার।
  • DPO (ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসার): জেলা স্তরে পুরো প্রকল্পের কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকেন।

৬. বর্তমান অবস্থা ও নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

বর্তমানে ICDS প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক করে 'সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি এবং পোষণ ২.০'-এর অধীনে আনা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে কাজের সব হিসাব পরিষ্কার রাখতে ভারত সরকার 'পোষণ ট্র্যাকার' নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা প্রতিদিন কতটা খাবার দেওয়া হলো এবং শিশুর ওজন ও উচ্চতা কতটা বাড়ল, সেই সমস্ত তথ্য সাথে সাথে নিজেদের ফোনে আপডেট বা রেকর্ড করে থাকেন।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.